মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
No menu items!
Homeঅন্যান্যশতবর্ষী আব্দুল বারীর ঘর নির্মাণে এগিয়ে এলেন ওয়ালটনের বিক্রয় বিভাগের প্রধান

শতবর্ষী আব্দুল বারীর ঘর নির্মাণে এগিয়ে এলেন ওয়ালটনের বিক্রয় বিভাগের প্রধান

কুষ্টিয়া অফিস

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। জীর্ণশীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে একাকী জীবন কাটছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালি গ্রামের ১১৫ বছর বয়সী আব্দুল বারীর। নেই কোনো ছেলে সন্তান। দুই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও জীবিকার তাগিদে লক্কড়ঝক্কড় সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে হাঁড়ি-পাতিল ও কড়াই মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই বৃদ্ধ।

এত বছর বয়সেও জোটেনি বয়স্ক ভাতার একটি কার্ড। প্রতিদিন সকাল হলেই পুরোনো সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে হাঁড়ি-কড়াই মেরামত করেন তিনি। বয়সের কারণে শরীর আর আগের মতো সায় না দিলেও পেটের দায়ে থেমে থাকার সুযোগ নেই তাঁর।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে আব্দুল বারীর জীবনসংগ্রামের ওপর প্রতিবেদন প্রচারিত হলে বিষয়টি নজরে আসে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের বিক্রয় বিভাগের প্রধান ওয়ালিউল ইসলাম আজিমের। মানবিক ওই সংবাদ দেখে শতবর্ষী এই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে ওয়ালিউল ইসলাম আজিমের পক্ষ থেকে তার ডিভিশনাল সেলস ম্যানেজার আল আমিন মাতুব্বার ও চুয়াডাঙ্গা জেলার পরিবেশক মেহেদী হাসান স্থানীয় কবিখালি গ্রামে গিয়ে বৃদ্ধ আব্দুল বারীর হাতে তার ঘর নির্মাণের জন্য নগদ অর্থ তুলে দেন। এ সময় অর্থ পেয়ে আব্দুল বারী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ওয়ালটনের বিক্রয় বিভাগের প্রধান ওয়ালিউল ইসলাম আজিম বলেন, “আব্দুল বারীর জীবনসংগ্রামের খবরটি দেখে আমি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছি। তাঁর মতো একজন শতবর্ষী মানুষকে জীবনের শেষ সময়ে এসে জীবিকার জন্য এত কষ্ট করতে হচ্ছে—এটি সত্যিই দুঃখজনক। তাঁর পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও এমন অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।”

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন আব্দুল বারী। বয়সের কারণে তাঁর কাজ করার সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। তাই সরকারি বয়স্ক ভাতার আওতায় এনে তাঁর নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আব্দুল বারীর মতো অসহায় ও প্রবীণ মানুষের পাশে শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারি প্রশাসনও এগিয়ে আসবে। জীবনের শেষ সময়টুকু যেন অন্তত একটু স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাটাতে পারেন এই শতবর্ষী বৃদ্ধ—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

উল্লেখ্য, ওয়ালটনের বিক্রয় বিভাগের প্রধান ওয়ালিউল ইসলাম আজিমের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকায়। ইতিপূর্বেও তিনি বিভিন্ন সময় এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments